পথ-Poth এর উদ্দেশ্য

নারীর পথ চলার গল্পগুলো মসৃণ নয়। সেটা যদি হয় কোনো সৃজনশীল অঙ্গণে, তবে তা আরও বেশি কঠিন। কেননা, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গী নারীকে নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকায় বেঁধে ফেলতে চায়।
সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হওয়ার পরও সমাজ নারীকে বোঝায়- বিয়ে করা, সন্তান লালনপালন ও সংসারের অন্যদের সেবাদানের মধ্যেই নারী জীবনের যাবতীয় পূর্ণতা নিহিত। অথচ, পুরুষের মতো নারীরও আছে সৃজনশীল সত্তা, আছে শিল্পমন।
নারীকে যখন তার শিল্প সত্তাকে ঘরের চার দেয়ালের নানান অনুশাসনের মধ্যে গোপন রাখতে হয়েছে, তখন তা কখনও ফুঁড়ে বের হয়েছে নকশী কাঁথার ফোঁড়ে, কখনও পিঠার নকশায়, কখনও উঠোনে বা মাটির দেয়ালে আঁকা আলপনায়, কখনও বা সেলাইয়ে “ভুলো না আমায়” তোলা রুমালে। এমন অসংখ্য উদাহরণ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
সমাজ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এগিয়েছে। মেয়েরা ঘরের বাইরে বের হচ্ছে, পড়াশোনা শিখছে, চাকরি করছে, সৃজনশীল নানা অঙ্গণেও তাদের পদচারণা বেড়েছে।
তবে, এখনও বেশিরভাগ মেয়ে ও তাদের অভিভাবকেরা ভাবেন যে, সে পড়াশোনা করবে, চাকরি করলেও ‘মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক’ চাকরি করবে, আর প্রধানত ঘরসংসার করবে। এখনও খুব কম মেয়েই ভাবে- “বড় হয়ে আমি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে দেশের জন্য অস্কার বয়ে আনবো, অথবা, আমি সাহিত্যে নোবেল পাবো, বিশ্ববিখ্যাত কম্পোজার হবো, অথবা, টেক জায়ান্ট হবো, ফেসবুক/ ইউটিউবের মতো নতুন কিছু আবিষ্কার করে ইতিহাস সৃষ্টি করবো...” ইত্যাদি।
আগল ভেঙে অতীতেও দেশ-বিদেশের বহু নারী বিভিন্ন অঙ্গণে তাঁর সৃজনশীলতার ছাপ রেখে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন, আজও তাঁদের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন অন্য অনেক নারী। তবে কীর্তিমান সব নারীর কথা আমরা জানি না, প্রচলিত গণমাধম, পাঠ্যপুস্তক বা ইতিহাসের বইতে তাঁদের সবার কথা উপস্থাপন করা হয় না। বেশিরভাগকে অনেকটা আড়ালেই রাখা হয়।
খুব স্বল্প পরিসরে হলেও যারা পরিচিত ও যারা পরিচিত নন, সৃষ্টিশীল সেসব নারীদের গল্পগুলো এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটির মাধ্যমে সামনে আনতে চাই। আজকের মেয়েরা যদি এ গল্পগুলো জানতে পেরে যদি আরও বেশি বেশি অনুপ্রাণিত হয়, স্বপ্ন দেখে নিজের সৃজনশীল সত্তা বিকাশের- তবেই পথ-এ উদ্যোগ সফল হবে।


Comments